এনজিও বৈঠকে বন্যা মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

দেশের দক্ষিণ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ২০ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ পর্যন্ত বন্যায় ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৫০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাড়ে ৯ লাখের মতো মানুষ এখনো পানিবন্দী অবস্থায় আছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আজ শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এনজিওগুলোর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

দেশের শীর্ষ এনজিও–প্রধানদের সঙ্গে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বৈঠক | ছবি: বাসস 

বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল বন্যা মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্যোগ থেকে শিক্ষা নিয়ে কীভাবে আরও সুসংগঠিতভাবে কাজ করা যায়, তা নির্ধারণ করা। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, বন্যাদুর্গত এলাকায় এনজিওগুলো যাতে সমন্বিতভাবে কাজ করে, সে বিষয়টিতে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ত্রাণ কার্যক্রমে সমন্বয়ের আহ্বান

বৈঠকে ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ উল্লেখ করেন, বন্যার ত্রাণ কার্যক্রমে সমন্বয়ের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, অনেক জায়গায় ত্রাণ পৌঁছালেও, দুর্গম এলাকাগুলোতে ত্রাণ পৌঁছাতে সমস্যা হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে অঞ্চলভিত্তিক ভাগ করে ত্রাণ বিতরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। তাছাড়া, বন্যাপরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমের জন্য প্রচুর তহবিলের প্রয়োজন হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রয়োজনীয় তহবিল এবং ত্রাণ বিতরণের পরিকল্পনা  

বৈঠকে একটি এনজিওর প্রতিনিধি প্রাথমিক ধারণা দেন যে, চলমান বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রায় এক হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা ত্রাণ তহবিলে অর্থ পাঠাতে আগ্রহী এবং তাদের সহায়তা নিয়ে একটি তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টা উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর সঙ্গে এই বিষয়ে আরও আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে।

পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের পরিকল্পনা

বৈঠকে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন, মোবাইল টাওয়ার সচল করা এবং স্বাস্থ্য ও খাদ্যঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো, বলেন, "চলমান বন্যা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে কীভাবে কাজ করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সব জায়গায় ত্রাণ নিশ্চিত করতে এনজিওদের মধ্যে কমিটি গঠনের তাগিদ দেওয়া হয়।"

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি

বৈঠকে আলোচিত হয় যে, বন্যা পরবর্তী সময়ে কত টাকা লাগবে, তা নিয়ে একটি বিস্তারিত কাজ চলছে। পানিবাহিত রোগ ও খাদ্য সংকটের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে পানির স্তর কমতে শুরু করেছে, যা বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। 

আজকের বৈঠকের মাধ্যমে বোঝা যায় যে, চলমান বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার এবং এনজিওগুলোর মধ্যে সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ত্রাণ কার্যক্রমের সুষ্ঠু সমন্বয়, পর্যাপ্ত তহবিল সংগ্রহ এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমের জন্য সুস্পষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ এই দুর্যোগের সময় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সহায়ক হবে। এ ধরনের উদ্যোগ শুধু বর্তমান দুর্যোগ মোকাবিলায় নয়, ভবিষ্যতে আরও কার্যকর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার পথ প্রশস্ত করবে। 

মুক্ত প্রকাশ

প্রতিবেদন: সম্পাদকীয় বিভাগ

Post a Comment

0 Comments