বাংলাদেশে উজানের ঢল এবং কয়েক দিনের টানা বর্ষণে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। দেশের ১২টি জেলা এখনও বন্যায় বিপর্যস্ত। এসব জেলার অনেক এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। বন্যায় ৪৫ লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
![]() |
| চলমান বন্যা পরিস্থিতি | ছবিঃ সংগৃহীত |
নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে
নোয়াখালী জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি কিছুটা কম হলেও বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। জেলার আট উপজেলার ২০ লাখেরও বেশি বাসিন্দা পানিবন্দী হয়ে আছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলা শহর মাইজদীর প্রায় সব সড়কেই হাঁটুপানি জমে রয়েছে। আধা পাকা ও টিনের ছাউনির ঘরগুলোও হাঁটুপানিতে নিমজ্জিত, যা বাসিন্দাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
লক্ষ্মীপুরে পানির উচ্চতা কিছুটা বেড়ে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। জেলার পাঁচটি উপজেলার প্রায় সব ইউনিয়ন এখন পানিতে ডুবে আছে। বিদ্যুতের খুঁটি হেলে পড়া ও গাছ উপড়ে পড়ার কারণে প্রায় ২০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন অবস্থায় আছেন, যা স্থানীয় জনজীবনে অচলাবস্থা সৃষ্টি করেছে।
ফেনীতে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা, অনেক এলাকা এখনও যোগাযোগবিচ্ছিন্ন
ফেনী জেলায় বন্যা পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক। জেলার ছয়টি উপজেলা—ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী, পরশুরাম, ফেনী সদর, দাগনভূঞা ও সোনাগাজী—শহরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় জেলার কয়েকটি গ্রামের মানুষের সঠিক খবর পাওয়া যাচ্ছে না। ফেনী সদরের বিভিন্ন গ্রামে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী দলগুলো, যারা ইতোমধ্যে ২০০ জনেরও বেশি মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিয়েছে।
কুমিল্লায় গোমতীর বাঁধ ভেঙে নতুন এলাকা প্লাবিত
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বুড়বুড়িয়া এলাকায় গোমতীর বাঁধের একটি অংশ ভেঙে অন্তত ৩৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে দুই লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে এখনো পানি ঢুকছে লোকালয়ে, ফলে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশ্রয়ের জন্য বাঁধের ওপর অবস্থান নিয়েছেন, তবে বিশুদ্ধ পানি ও শৌচাগারের সংকট দেখা দিয়েছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যোগাযোগ কার্যত বন্ধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গত বুধবার থেকে কার্যত যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। মিরসরাই থেকে ফেনী সদর পর্যন্ত কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। ত্রাণবাহী যানবাহন থেমে থেমে চললেও বাকি যানবাহনগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে আছে, ফলে সাধারণ মানুষকে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে কোমরসমান পানি জমে আছে, যা উদ্ধার কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে।
বন্যার কারণে দেশের বেশ কিছু জেলা এখনো বিপর্যস্ত অবস্থায় আছে। ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম চলমান থাকলেও বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্কের সমস্যার কারণে এবং অনেক এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ত্রাণ কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে। বন্যাকবলিত মানুষদের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আহ্বান জানানো হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে দেশের অনেক এলাকায় মানবিক সংকট দেখা দিতে পারে।
মুক্ত প্রকাশ
প্রতিবেদন: সম্পাদকীয় বিভাগ

0 Comments