দেশজুড়ে বন্যার তীব্রতায় ফেনী ও ১০ জেলা মোবাইল নেটওয়ার্কে বিপর্যয়

দেশের ১১টি জেলা বন্যার কবলে পড়েছে, যার ফলে প্রায় ৪৫ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং ৮ লাখ ৮৭ হাজার ৬২৯টি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। অতি বৃষ্টি ও উজানের পানির ঢলে এসব এলাকার বিস্তৃত অংশ ডুবে গেছে, পরিস্থিতি গুরুতর আকার ধারণ করেছে।

মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার | ছবিঃ সংগৃহীত 

মোবাইল নেটওয়ার্কে বিপর্যয়

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) জানিয়েছে, বন্যাকবলিত ১০ জেলার মধ্যে মোট ১৩,২৪০টি মোবাইল টাওয়ারের মধ্যে ১,৪৬১টি টাওয়ার অচল রয়েছে। এর মধ্যে ফেনী জেলার ৯১.৯ শতাংশ টাওয়ারই অচল হয়ে গেছে। নোয়াখালী জেলার ২১ শতাংশের বেশি, খাগড়াছড়ির ১৫ শতাংশের বেশি এবং কুমিল্লার প্রায় ১৪ শতাংশ টাওয়ারও অচল। 

ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলায় মোবাইল নেটওয়ার্ক পুনরুদ্ধারে সেনাবাহিনীর সহায়তায় সমন্বয়ের কাজ চলছে। কিন্তু, যেসব টাওয়ারের এলাকা ডুবে গেছে, সেখানে পানি নেমে না আসা পর্যন্ত টাওয়ার সচল করার কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। ফেনী জেলায় টাওয়ার সচল করা একটি চ্যালেঞ্জিং ও সময়সাপেক্ষ কাজ হয়ে পড়েছে। সিলেট ও মৌলভীবাজার এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ায় যোগাযোগ স্থাপন কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

ত্রাণ কার্যক্রম ও সহায়তা

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যাপকভাবে ত্রাণ ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পানিবন্দী পরিবারগুলোর জন্য জরুরি সহায়তা প্রদান এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সরকার এবং বিভিন্ন সংস্থা দ্রুততম সময়ে বন্যার ক্ষতি মোকাবেলা করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

এই পরিস্থিতিতে, জনগণের জন্য জরুরি তথ্য ও সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য সকল পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

Post a Comment

0 Comments